সর্বশেষ খবরঃ

স্মার্টফোন কেড়ে নিলো কাব্যর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

স্মার্টফোন কেড়ে নিলো কাব্যর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন
স্মার্টফোন কেড়ে নিলো কাব্যর ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন

লেখা: মাহমুদুল

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন বুনেছে মনে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। অসহায় মানুষের ও দেশের সেবা করতে চাই কাব্য। বাবা তার অনুপ্রেরণা,কেননা তিনি সৈনিক। তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত সব সময়। চাকুরীজনিত কারনে কাব্যর শৈশব কাল বাবার সানিধ্য ছাড়া কাটলেও বাবাকে সে প্রচন্ড ভালোবাসে। বাবার চাকরি নিয়ে বরাবরই সে গর্বিত।

স্বপ্ন একটা শব্দ হলেও এর তাৎপর্য ও গভীরতা বিশাল। স্বপ্নের পথে কোন কিছুই বাঁধা হতে পারেনা যেমন সত্য তেমনি মাঝে মাঝে সে স্বপ্নও অধরা থেকে যায়। কাব্যর জীবনে এমনটিই ঘটলো। হাতে খড়ির পর হতেই পড়াশোনায় মনোযোগী কাব্য। প্রাথমিকের ফলাফলেই তার মেধা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়েছিলো পরিবার। মায়ের বাধ্য সন্তান ও শান্ত শিষ্ট স্বভাবের হওয়ায় শৈশব জীবন হতেই কাব্যর প্রতি মা-বাবার আস্থা এত বেশী ছিলো যে,তাদের ছেলেকে পড়াশোনার তাগিদ দিতে হতোনা। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় ছেলের উচ্চ শিক্ষার জন্য খরচ মেটানোর আগাম পারিবারিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মা।

প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিকে পা তখনো পড়াশোনায় কাব্যর ধারাবাহিক সাফল্য অটুট আছে।বৃত্তির টাকাও পেয়েছে সাথে মিলেছে মেধাবী ছাত্রের তকমা। নবম শ্রেনীতে পছন্দের বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করে গর্বিত সে। রসায়ন সাবজেক্ট তার খুব ভালো লাগে। হঠাৎই কাব্যের মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়লো। পড়াশোনার ফাঁকে সে প্রথম প্রথম ফোনে অল্প সময় কাটালেও সময়ের সাথে তীব্রতা বাড়তে লাগলো। ম্যাসেঞ্জার ,ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কাব্য অল্প সময়ে প্রচুর জনপ্রিয়তা পেল। মিষ্টিভাষী তরুণের কথা ও গল্পতে আকৃষ্ট হতো সকলে।

সময়ের সাথে স্যেশাল প্লাটফর্মে তার পরিচিতি বাড়তে লাগলো। পরিচিতরা ক্যব্যের কথা শুনতে প্রায়ই নক করতো। অবসর সময় পেলেই চলতো ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে গল্প আড্ডা। কাব্যর মনোবল ছিলো দৃঢ় ও আত্নবিশ্বাস ছিলো বেশী।মাধ্যমিকের সমাপনী পরীক্ষা শেষ হলো। নিজ মেধা ও আত্নবিশ্বাসের সফলতাও পেলো। জিপিএ ৫ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরাও তার উপর বেজায় খুশী। কাব্যর প্রতি মা-বাবার ভরসা আরো বেড়ে গেলো। প্রথম ধাপেই কাব্যর মেডিকেল পড়ার রাস্তাও প্রশস্ত হলো।

কলেজে ভর্তি হলো অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র লক্ষ্য পূরনের জন্য দ্বিতীয় ধাপেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে জানতো কাব্য। ভর্তির শুরু হতে রসায়ন,ফিজিক্স,বায়োলজি,ম্যাথসহ ৫টি বিষয়ে প্রাইভেট পড়া শুরু করলো। পড়াশোনা জীবনে প্রথম তার মা-বাবাকে ছেড়ে ম্যাচে গিয়ে ওঠলো।কাব্য তার নরম ফুলের মত বিছানা ছেড়ে এক চিলতে কাঠের উপর পাতলা তোষক পেড়ে ঘুমানো শুরু করলো। মোবাইল আসক্তি হতে নিজেও বের হওয়ার চেষ্ঠা করছিলো সে, কিন্তু কোন ভাবেই তা আর হয়ে ওঠছে না। ভদ্রতার খাতিরে তার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের ফোনে সময় দেওয়াই লাগতো।

আগেই বলেছি তার আত্নবিশ্বাসটা এতটা গাড়ো ছিলো যে,মাধ্যমিকের গন্ডিতে ফোনে সময় কাটিয়েও যখন ভালো ফল হয়েছে তখন এইচ এসসিতে সমস্যা হবেনা বলে ধরেই নিয়েছিলো। কাব্যর মোবাইল আসক্তি এত বেড়েছে যে এবার পরিবারের সদস্যদের দৃষ্টিতে পড়লো। তারা মোবাইল ফোন ব্যাবহার নিয়ে কড়াকড়ি করলেই কাব্য রেগে যেত ও উচ্চস্বরে কথা বলতো। নির্ধারিত সময়ে এইচ এসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। পরীক্ষা দেওয়ার পর কাব্য কিছুটা হলেও আঁচ করতে পেরেছে যে,তার প্রত্যাশা অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে পারেনী। তারপরও এতটাও খারাপ হয়নি তার পরীক্ষা যে মেডিকেল পড়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরন করতে পারবেনা।

যতটুক ঘাটতি আছে তা পূরনের জন্য ভর্তি কোচিং করতে বাড়ি ছেড়ে পাশের জেলায় পাড়ি জমালো। সেখানেও কষ্টের জীবন মেচের খাবার একেবারেই খেতে পারেনা কাব্য। আবারো এক চিলতে বিছানায় শুয়ে, কখনো না খেয়ে ঘুমিয়ে নিজ স্বপ্ন পূরনের জন্য চেষ্ঠা চালাচ্ছে এখন কাব্য। ততক্ষনে যে তার স্বপ্নপূরনের লক্ষ্যে মোবাইল ফোন উঁচু পাহাড় হয়ে বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে লক্ষ্যই করেনী কাব্য। মেডিকেল ভর্তি কোচিং ক্লাস ও মন দিয়েই করছে।হঠাৎই পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ জানা গেলো। নির্ধারীত দিনেও ফল প্রকাশও হলো। কাব্য ততক্ষনে নিশ্চুপ হয়ে বসে রইলো। মাত্র ৪ পয়েন্ট অর্জন করেছে সে এইচ এসসি পরীক্ষায়।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় কোচিং এর বদৌলতে প্রত্যাশার চেয়েও বেশী মার্ক তুললেও সে যে সরকারীভাবে ডাক্তারী পড়তে পারবেনা অনেকখানি নিশ্চিত হয়েছে কাব্য। সে বরাবরই ছিলো স্বচ্ছ চিত্তের ব্যাক্তিত্বমনা মানুষ।যোগ্যতা সম্পন্ন না হয়ে শাখা পথ ধরে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে তার নেই।পরীক্ষার ফল দেখে সে তার স্বপ্ন তাসের ঘরের মতই ধসে পড়তে দেখলো। ইচ্ছে শক্তিটাও কাব্যর  অংকুরে বিনষ্ট হলো। সে হয়তো পারতো প্রাইভেট ভার্সির্টিতে ডাক্তারী পড়তে। মন ভাঙ্গার বেদনায় সে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায়ই অংশ নিলোনা। এ কারনে তার জীবনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন অধরা রয়ে গেলো। সাদা আপ্রোন আর গায়ে জড়ানো হলোনা কাব্যর।স্যোশাল প্লাটফর্ম এর সস্তা জনপ্রিয়তা তার জীবন থেকে কেড়ে নিলো বহু মূল্যবান প্রাপ্তি।

আরো খবর

কবাখালীর বন্যাদুর্গতদের মাঝে নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট বিতরণ
কবাখালীর বন্যাদুর্গতদের মাঝে নগদ সহায়তা ও হাইজিন কিট বিতরণ
হিলফুল ফুজুল ডোনেশন বক্স এর উদ্যোগে বেনাপোলে বৃক্ষ রোপণ
হিলফুল ফুজুল ডোনেশন বক্স এর উদ্যোগে বেনাপোলে বৃক্ষ রোপণ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছিঃ স্পিকার
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছিঃ স্পিকার
নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে খুন
নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে খুন
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মিল ও ওয়ার্কশপে ভয়াবহ আগুন
চিরিরবন্দরে মিল ও ওয়ার্কশপে ভয়াবহ আগুন
মোবাইল দিয়েই শনাক্ত করুন হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা
মোবাইল দিয়েই শনাক্ত করুন হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অনুদান পেল শিক্ষার্থী, রোগী,ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অনুদান পেল শিক্ষার্থী, রোগী,ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান