সর্বশেষ খবরঃ

কেশবপুরে আঁখ চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

কেশবপুরে আঁখ চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা
কেশবপুরে আঁখ চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা

রনি হোসেন,কেশবপুর প্রতিনিধি :: যশোরের কেশবপুরে আঁখের ব্যাপক বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তাদের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার আশা জেগেছে। কেশবপুর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় লতারি জরা, ইশ্বরদী-১৬ ও গ্যান্ডারী জাতের আখ চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় দিনে দিনে আঁখ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। প্রতি বছর এলাকায় বৃদ্ধি পাচ্ছে আঁখের আবাদ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর কেশবপুর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ করেছেন কৃষকরা। উপজেলার ত্রিমোহিনী, মঙ্গলকোট, বসুন্দিয়া, বাদুড়িয়া, পাঁচপোতা, ঝিকরা, বড়েঙ্গা, রামকৃষ্ণপুর, পাচারই এলাকায় আখের চাষ হয়েছে বেশি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মঙ্গলকোট, সাগরদাঁড়ি ও ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আঁখখেতে আঁখ পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। এই অঞ্চলের মাটি আঁখ চাষের উপযোগী হওয়ায় এখানকার কৃষকরা তাদের ভাগ্য বদলাতে ২হাজার সাল থেকে আঁখ চাষ শুরু করে আসছেন কৃষকরা।

আঁখ চাষ করে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। যে কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা আঁখ চাষের প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠেছে। আঁখ চাষ লাভজনক হওয়ায় বাদুড়িয়া, মঙ্গলকোট, পাঁচপোতা, বসুন্তিয়া, রামকৃষ্ণপুর, বড়েঙ্গা, পাঁচারই, কেদারপুর, সাগরদাঁড়ী, মোমিনপুর, ঝিকরা, বেগমপুর ত্রিমোহিনীসহ বিভিন্ন গ্রামে আঁখ চাষ করে থাকে।

স্থানীয় আঁখচাষিরা তাদের নিজস্ব উদ্যোগে ২হাজার সাল থেকে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের বাদুড়ীয়া মোড় নামক স্থানে রাস্তার দুই পাশে আঁখের হাট বসিয়ে প্রাথমিকভাবে আঁখ বেচাকেনা করে আসছে। প্রতিদিন কেশবপুর ছাড়াও যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদাহ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাদুড়ীয়া হাটে এসে আঁখ ক্রয় করে নিয়ে যান।

ভালো বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় পাইকাররা এই সড়কের পাশে গাড়িপার্কিং করে থাকে। যার ফলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। তাই আখ বিপণন ব্যবস্থা ভালো করতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জায়গা বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন আঁখচাষি ও ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বসুন্দিয়া গ্রামের আঁখচাষি রহমত আলী, আহম্মাদ আলী, হাফিজুর রহমান, নাজমুল হোসেন, ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চাঁদড়া গ্রামের ফারুক হোসেন, সোহাগ হোসেন জানান, তারা প্রতি বছর আখঁ চাষ করেন।

আঁখ চাষে ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এ আঁখ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। আঁখখেতে সময়মতো কৃষকরা পরিচর্যাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করার ফলে প্রতি বিঘা জমিতে আঁখ রোপণ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত ১ লাখ টাকা খরচ হয়। আর এ আঁখ বিক্রয় হয় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, কেশবপুর উপজেলায় এ বছরে ৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। আঁখ চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার আসায় ঝুঁকছেন কৃষকরা। আঁখ চাষে কৃষকরা লাভবান বলে তিনি আশাবাদী।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তুহিন হোসেন বলেন, দক্ষিণ বঙ্গের একটি বৃহত্তম আঁখের হাট বসে কেশবপুরের বাদুড়িয়া মোড়ে। কিন্তু বাজারের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় সড়কের দু’পাশে আঁখ রেখে বেচা-বিক্রি করে। যার ফলে দুর্ঘটনা আশঙ্কা বাড়ছে। মাঝেমধ্যে যানজটের সৃষ্টি হয়। হাট কমিটির পক্ষ থেকে আবেদন পেলে আশপাশে খাসজমি থাকলে বাজার স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরো খবর

হিলফুল ফুজুল ডোনেশন বক্স এর উদ্যোগে বেনাপোলে বৃক্ষ রোপণ
হিলফুল ফুজুল ডোনেশন বক্স এর উদ্যোগে বেনাপোলে বৃক্ষ রোপণ
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছিঃ স্পিকার
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছিঃ স্পিকার
নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে খুন
নড়াইলে ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে খুন
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মিল ও ওয়ার্কশপে ভয়াবহ আগুন
চিরিরবন্দরে মিল ও ওয়ার্কশপে ভয়াবহ আগুন
মোবাইল দিয়েই শনাক্ত করুন হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা
মোবাইল দিয়েই শনাক্ত করুন হোটেলকক্ষের গোপন ক্যামেরা
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অনুদান পেল শিক্ষার্থী, রোগী,ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর অনুদান পেল শিক্ষার্থী, রোগী,ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
বিশ্বজুড়ে নিজ নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
বিশ্বজুড়ে নিজ নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের